মেয়রকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে শ্রমিক লীগ নেতার ফটোসেশন!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে দলবদলের সংস্কৃতি নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি এক ব্যক্তির কার্যক্রম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তিনি ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া আওয়ামী মোটর চালক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আল আমিন (৪৫)। দীর্ঘদিন জাতীয় শ্রমিক লীগের ব্যানারে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আচমকা তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেন।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তোলা ছবি ও ভিডিও দ্রুততার সঙ্গে তার ফেসবুক থেকে মুছে ফেলেন তিনি। এরপর থেকে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি কনভেনশন হলে তার বিচরণ। বিএনপির কোনো কর্মসূচি হলেই সবার আগে সেখানে হাজির হন। মূলত তিনি অপেক্ষায় থাকেন প্রধান অতিথির আগমনের জন্য, যেন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ফটোসেশন করতে পারেন। এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ইফতার মাহফিলসহ নানা অনুষ্ঠানে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে বাকলিয়া থানাধীন কে আর এস কনভেনশন হলে। ঈগল-১ বাস লিমিটেড মালিকদের উদ্যোগে সেখানে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ঈগল-১-এর চেয়ারম্যান ইয়াছিন চৌধুরী আছু।
ইফতারের ঠিক আগে, যখন প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মঞ্চে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান, তখনই মো. আল আমিন দ্রুত মঞ্চে উঠে তার পেছনে অবস্থান নেন। গণমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়ার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন তিনি। বক্তব্য চলাকালে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ানো, উঁকি-ঝুঁকি দেওয়া, এমনকি একটু সামনে এসে নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টাও করেন। পরে সেই ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনার পর বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দলটির অনেক সিনিয়র নেতা ও কারাবন্দি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হলেও মো. আল আমিন একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। দল পরিবর্তন করেই এখনো রাজার হালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, রাজনীতিতে কি আসলেই নীতি-আদর্শের চেয়ে টাকার কদর বেশি?
অনুসন্ধানে জানা যায়, মো. আল আমিন একসময় গাড়ির হেলপার ছিলেন। অথচ বর্তমানে তিনি একাধিক মাহিন্দ্রা ও ঈগল-১ বাসের মালিক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তিনি ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারীদের একজন ছিলেন।
তবে আশ্চর্যের বিষয়, যেখানে নিরীহ আন্দোলনকারীদের নামে একের পর এক মামলা হয়েছে, সেখানে মো. আল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. জসীমের ছত্রছায়ায় রয়েছেন তিনি এবং রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য অর্থের লেনদেনও করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মো. আল আমিনের এই রাজনৈতিক কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রামের জনপ্রিয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিতর্কিত করা। পরিকল্পিতভাবে তিনি মেয়রের পেছনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন, যাতে রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানো যায়। অথচ মেয়র এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ কোনো নতুন বিষয় নয়। তবে মো. আল আমিনের মতো চরম সুবিধাবাদী ও আদর্শহীন ব্যক্তিরা রাজনীতির পরিবেশকে আরও কলুষিত করছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা যখন ত্যাগ স্বীকার করে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন কিছু ব্যক্তি দলবদল করে ফটোসেশনের মাধ্যমে নিজেদের বড় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ধরনের অনৈতিক ও সুবিধাবাদী রাজনীতি বন্ধ করা না গেলে প্রকৃত রাজনীতিবিদরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে এবং জনসেবার পরিবর্তে স্বার্থান্বেষী রাজনীতি আরও প্রসার লাভ করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ আল আমিন বলেন, আমি বিএনপি নেতা। আপনি নিউজ করুন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫ । ১০:৩১ এএম